1. bayzid.bd255@gmail.com : bayzid saad : bayzid saad
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
৩১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার ১৭ প্রস্তাব অনুমোদন
৩১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার ১৭ প্রস্তাব অনুমোদন

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১৭টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এসব প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে ব্যয় হবে ৩১ হাজার ৩৫৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ২৯৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা আসবে অন্যান্য উৎস থেকে। এই ১৭টি প্রস্তাবের বাইরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশের জন্য অনুমোদিত হয়েছে টেবিলে উত্থাপিত তিনটি প্রস্তাব।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৩ তম সভায় ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১৭টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের ৪টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের ২টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসগক বিভাগের ১টি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের ১টি প্রস্তাবনা ছিল। অনুমোদিত ১৭টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৩১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫২ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৮৬ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ৩১ হাজার ৩৫৮ কোটি ২৩ লক্ষ ৯ হাজার ৪১১ টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক ও বৈদেশিক অর্থায়ন ২৯৬ কোটি ২৯ লক্ষ ৩২ হাজার ৯৭৫ টাকা।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ‌সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান অনুমোদিত প্রস্তাবনাসমূহের বিস্তারিত তথ্য জানান।

সচিব জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইউএইর প্রতিষ্ঠান কেয়ারেল ক্রপ ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে এই গম কিনতে মোট ব্যয় হবে ১৭৫ কোটি ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই গম কিনবে খাদ্য অধিদপ্তর।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রো ক্রপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এই গম কিনতে মোট ব্যয় হবে ১৭৩ কোটি ৪০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এই গমও অধীন খাদ্য অধিদপ্তর আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কিনবে।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ- টিসিবির জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৬ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ইসলাম ট্রেডিং থেকে এই মসুর ডাল কিনতে মোট খরচ হবে ৬২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

মসুর ডালের পাশাপাশি টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৬০ লাখ লিটার রাইস ব্রান অয়েল কেনার অনুমোন দেওয়া হয়েছে। মজুমদার প্রোডাক্টস ‌লিমিটেড এবং এমআরটি অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড থেকে এই তেল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৯৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতারের মুনতাজাত থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সার কিনতে খরচ হবে ১০৫ কোটি ১ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এ সার কিনবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সার কিনতে মোট খরচ হবে ১০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৪ হাজার ৩৭৫ টাকা। কাফকোর সারও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের মাধ্যমে কেনা হবে।

তিনি আরো জানান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন ‌পেট্রোবাংলা কর্তৃক ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন-২০২১’-এর আওতায় ইউএসএ’র এক্সলারেট এনার্জি এলপির কাছে থেকে (২০২৪ সালের ২য়) ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৪২ কোটি ২৬ লাখ ৯৭ হাজার ২৮০ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জিটুজি ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের জন্য ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল ১৫ হাজার ৮২ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) কর্তৃক ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায় ২৪০ মেগাওয়াট (এসি) সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। ট্যারিফ ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ক্রয় করা হলে ২০ বছর মেয়াদে এনার্জি রিনিউয়েবল বিডি লিমিটেড এবং পিডব্লিউআর এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি কোম্পানিকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১০ দশমিক ৯৯৫ টাকা হিসেবে আনুমানিক ৮ হাজার ৫৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

মন্ত্রিসভা কমিটি বিউবো কর্তৃক কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় ৩০ মেগাওয়াট (এসি) সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ট্যারিফ অনুমোদনও দিয়েছে। ট্যারিফ ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ক্রয় করা হলে ২০ বছর মেয়াদে সাউথ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ডিএইচ ইউরো হাইটেক কোম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশি কোম্পানি নিউটেক সোলার এনার্জি বিডি লিমিটেড কনসোর্টিয়ামকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১১ দশমিক ০৩ টাকা হিসাবে আনুমানিক ১ হাজার ৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

বিউবো কর্তৃক কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলায় ৫০ মেগাওয়াট (এসি) সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। ট্যারিফ ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ক্রয় করা হলে ২০ বছর মেয়াদে জুলস পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানিকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১০ দশমিক ৯৪ টাকা হিসাবে আনুমানিক ১ হাজার ৭৭১ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এছাড়া বিউবো কর্তৃক বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় ১০০ মেগাওয়াট (এসি) সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ট্যারিফ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ট্যারিফ ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ক্রয় করা হলে ২০ বছর মেয়াদে এশিয়ান ইনটেক পাওয়ার করপোরেশন এবং এক্সিয়া পাওয়ার হোল্ডিং বি.ভি কনসোর্টিয়ামকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১০ দশমিক ৯৯ টাকা হিসাবে আনুমানিক ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের ক্রয়চুক্তির ভেরিয়েশন প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে বৈঠকে।
লেখাটি প্রকাশিতঃ